৫ই আগস্টের পর কীভাবে ৩ মাস দেশে ছিলেন ওবায়দুল কাদের
গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কোথায় ছিলেন তা সরকার জানত না বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, সরকারের জানা থাকলে তাকেও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হতো।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক বিশেষ বৈঠকের পর এ মন্তব্য করেন তিনি।
গণমাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওবায়দুল কাদের ৩ মাসের বেশি সময় দেশে লুকিয়ে ছিলেন। গত ৮ নভেম্বর মেঘালয়ের রাজধানী শিলং হয়ে তিনি কলকাতায় পালিয়ে যান। এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, তার অবস্থান সম্পর্কে সরকারের কাছে কোনো তথ্য ছিল না। আমরা যদি জানতাম, তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতো।
গত ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে ফিরে আসেন। কিন্তু মামলা দায়েরের পর অনেকে আবার পালিয়ে যান। এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, কাজে ফিরে আসার পর কেউ পালিয়ে গেছে, এমন কোনো তথ্য নেই। বেশিরভাগ কর্মকর্তাই দায়িত্ব পালনে ফিরে আসেননি। তারা আমাদের কাছে অপরাধী। তাদের খুঁজে পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আবারও নিশ্চিত করতে চাই যে যারা দোষী নন তাদের কোনো ক্ষতি হবে না। পরিবর্তনে সময় লাগে। আমরা দুই দিনের মধ্যে সব পরিবর্তন করতে পারব না। এর জন্য ধৈর্যের প্রয়োজন।
শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়েন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দলের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা না আসায় প্রথমে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে চলে যান তারা। অনেকেই দেশ ছাড়েন। গত ৫ আগস্টের ঠিক পরপরই দেশত্যাগ করেছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ নাসিম ও আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ অনেকে। কিন্তু তখন বড় জিজ্ঞাসা ছিল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কোথায় আছেন। তিনি দেশে না বিদেশে এমন প্রশ্ন ছিল রাজনৈতিক মহলে। সময়ে সময়ে তাকে নিয়ে নানা গুজব আর গুঞ্জন ছড়িয়েছে বাতাসে।
গণমাধ্যমের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী গণঅভ্যুত্থানের পর তিন মাস ৫ দিন তিনি দেশেই ছিলেন। এই সময়ে তিনি নিরাপদেই ছিলেন। দলের সভাপতির মতো তিনিও ভারতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছেন ওই সময়ে। যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন দলীয় সভাপতির সঙ্গে। সেখান থেকে সাড়া মিলেনি।
সূত্রের দাবি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া বক্তব্যে যারপরনাই বিরক্ত ছিলেন শেখ হাসিনা। ‘ছাত্রদের আন্দোলন দমাতে ছাত্রলীগই যথেষ্ট’ ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যেই আন্দোলনে আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছিল বলেই দলটির নেতারা মনে করছেন। ওবায়দুল কাদের গত ৮ নভেম্বর মেঘালয়ের রাজধানী শিলং হয়ে কলকাতায় পৌঁছান। তিনি এক বিশেষ স্থানে আয়েসেই দিন কাটাচ্ছিলেন। তবে কীভাবে দেশ ছাড়বেন তার ধান্দা করছিলেন। সবুজ সংকেত আসার পর সড়কপথে তিনি বিশেষ ব্যবস্থায় পৌঁছান। সেখান থেকে যান কলকাতা। দিল্লি নয়, কলকাতাতেই তিনি অবস্থান করবেন এমনটাই জানা গেছে। ভারত সরকারের কাছে তার জন্য কেউ কেউ লবি করছিলেন। এক্ষত্রে শেখ হাসিনা কোনো আগ্রহ দেখাননি।
এরআগে গত ৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরের আগ্রাবাদ অ্যাক্সেস রোডের এ আর টাওয়ারে একটি বাড়িতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অবস্থান করছেন এমন সন্দেহে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে তাকে না পেয়ে তার স্ত্রীর বড় ভাই নুরুল হুদা বাবুকে (৭০) থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। ওই সময় নুরুল হুদাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হলেও ১০ নভেম্বর সকালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার ওসি ফজলুল কাদের। শেখ হাসিনার পতনের পর লাপাত্তা হয়ে যান ওবায়দুল কাদের। তাকে গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালালেও পায়নি।